রাঙামাটিতে পৌর নির্বাচন: গোপনে গণসংযোগ আর উঠান বৈঠকে ব্যস্ত সম্ভাব্য প্রার্থীরা 


মোঃ আবদুল নাঈম মোহন    |    ১১:১১ এএম, ২০২০-১২-২৯

রাঙামাটিতে পৌর নির্বাচন: গোপনে গণসংযোগ আর উঠান বৈঠকে ব্যস্ত সম্ভাব্য প্রার্থীরা 

প্রাণঘাতী মহামারি করোনা ভাইরাস শেষ কবে.? বিশ্বজুড়ে এ প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা থাকলেও, এর মধ্যেই বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার ন্যায় রাঙামাটি পৌরসভায়ও ঘনিয়ে আসছে পৌরসভা নির্বাচন। মহামারি করোনা ভাইরাসের মধ্যে এবার চার ধাপে পৌর নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন। ২৫টি পৌরসভায় ইভিএমে নির্বাচন শুরু হয়েছে ২৮ ডিসেম্বর হয়েছে। জানুয়ারির শেষ দিকে তৃতীয় ও মধ্য ফেব্রুয়ারির চতুর্থ ধাপের ভোট হবে। দেশের পৌরসভা রয়েছে মোট ৩২৯টি। আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যেই পৌরসভার নির্বাচন করতে হয়। স্থানীয় সরকার আইন সংশোধনের পর, ২০১৫ সালে প্রথম দলীয় প্রতীকে ভোট হয় পৌরসভা নির্বাচনে। তখন নির্বাচনে ২০টি দল অংশ নেয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালে ২৪নভেম্বর পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ৩৬দিন সময় দিয়ে ভোটের তারিখ দেওয়া হয় ৩০ডিসেম্বর। একদিনে ভোট হয় ২৩৪টি পৌরসভার। বাকিগুলো মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ বিবেচনায় ও বিভিন্ন জটিলতা সেরে ভোট হয়। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, নিয়মানুযায়ী এবছরের ডিসেম্বর মাসে এসব পৌরসভা ন্যায় রাঙামাটি পৌরসভারও মেয়াদ শেষ। মহামারি করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বা নিয়ন্ত্রনে থাকলে ও বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভা গুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। 

রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনে ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তোড়জোড় শুরু করেছে। সম্ভাব্য মেয়র, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা করোনা পরিস্থিতির কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় এবং খোঁজ খবর নিচ্ছেন। মহামারি করোনা কালীন সময় বর্তমান কাউন্সিলরগণ ছাড়াও, কেউ কেউ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করেছিল। বেশিভাগ মানুষ পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিতে, মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা করোনার সময় এসব ত্রাণ বিতরণ করে। চাল, ডাল, আলু, তৈল, পেয়াঁজ, মুড়ি, দুধ, চিনি, চা-পাতা খাদ্য সামগ্রী ও সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাজার ও মাক্স বিতরণ করতে দেখা গিয়েছিল। তবে মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে, সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারদের খোজ খবর নিতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও মোবাইল ফোনে ব্যবহার করছে। 

রাঙামাটি পৌর এলাকায় ৯টি ওয়ার্ডে, (পুরুষ ৪৩৮৬৩ জন ও মহিলা ৩৪৮২৪ জন) মোট ভোটার আছে ৭৮৫৮৭জন। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের সাথে জোড় তদবিব চলাছে। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র প্রার্থীগণরাও দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করে, নিজ অবস্থান তুলে ধরছে। এদিকে বসে নাই সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর ও সাধারণ আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীরা দলীয় ভাবে দৌড় ঝাপের পাশাপাশি, রাঙামাটি পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গোপনে উঠান বৈঠক সহ বিভিন্ন ভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সম্ভাব্য মেয়র, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর ও সাধারণ আসনের কাউন্সিলররা। পৌরসভা নির্বাচন কে ঘিরে প্রার্থীদের আগাম প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। যে যার মতো কৌশলে ভোটারদের মন জয় করতে ব্যস্ত। দলীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান বাদ দিচ্ছেন না কোনটাই। প্রতিটি অনুষ্ঠানেই নিয়মিত অংশ নিয়ে চালাছেন গণসংযোগ। দিচ্ছেন নানা রকম উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। এতে করে চাঙ্গা হয়ে উঠছে পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা, যার ফলে ঝিমিয়ে থাকা রাজনৈতিক অঙ্গনে মুহুর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে পৌরসভা নির্বাচনের উত্তাপ। 

আগামী রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনে সরকার দল ও বিরোধী দল টিকে থাকা নিয়ে শুরু হয়েছে হিসাব-নিকাশও। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে দলীয় অফিস, সরকারী দপ্তর ও পাবলিক প্লেসে বইছে আগাম নির্বাচনের হাওয়া। সম্ভাব্য প্রার্থীগণ ঈদ, পুজো, বাংলা নর্ববষ, ইংরেজি নর্ববষ ও বিভিন্ন উৎসব ঘিরে ভোটারদের মন জয় করতে শুভেচ্ছা জানিয়ে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও শহরের রাস্তাঘাটে, পাড়া-মহল্লায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের ছবিসহ নানা রঙের পোষ্টার, ফেষ্টুন ও ব্যানার লাগিয়েছে, যা চোখে পড়ার মতো। 

রাঙামাটি পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর ও সাধারণ আসনের কাউন্সিলর গণদের, সমর্থক ও শুভাকাংক্ষী ও আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরছে ভোটারদের কাছে, কি কারণে পৌরবাসীর সেবায়, তারা নিয়োজিত হতে চান তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়চ্ছে। তবে রাঙামাটি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে, সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে-ময়দানে আগাম প্রচারে সরব হয়ে উঠেছে। অনেকেই ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের তুলে ধরার চেষ্টা করছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। 

প্রার্থীদের ছবি সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুনগুলো পৌরসভার পৌর ভোটারদের আগাম নির্বাচনী আমেজ দিচ্ছে। প্রার্থীরা যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে রাঙামাটি শহরের চায়ের দোকান, হোটেল, রেস্তÍরায় ও জনসমাগম স্থল গুলোতেও চলছে আলোচনা। প্রার্থীরা কে কোন মত পথের, কে মেয়র বা কাউন্সিলর হলে কি করবেন, তা নিয়ে চলছে আলোচনা ও সমলোচনা। প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করতে এখন থেকেই তাদের প্রার্থীতার খবর জানিয়ে দিচ্ছেন। নিচ্ছেন আগাম দোয়া ও আশীবার্দ। তাদের সমর্থক ও শুভাকাংক্ষীদের মাধ্যমে চালাচ্ছেন তাদের ভোট জরিপ। 

ভোটারদের আগাম সমর্থন আদায়ে করছে ঘরোয়া বৈঠক, সেখানে থাকছেন তাদের আত্মীয়স্বজন, সমর্থক ও কর্মীরা। তাদের মতামত নিয়ে ঠিক করা হচ্ছে ভোটের আগাম পরিকল্পনা। প্রার্থীরা পাড়া-মহল্লার ছোট-বড় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সবার সহযোগিতা ও দোয়া চাইছেন। এবারের নিবার্চনে মেয়র হওয়া “টাফ” এমন মন্তব্য অধিকাংশ প্রার্থীর। তারপরও মাঠে প্রার্থীর সংখ্যা যে কোন বারের চেয়ে এবার যে বেড়ে যাবে সেই আলামত স্পষ্ট। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে, সচেতন মহল থেকে জানা যায়, আগামী নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে তরুণ প্রার্থীদের সংখ্যা বেশি। যার কারণে এবার হয়তো চলতে পারে টাকার খেলাও। তবে প্রার্থীরা চাইবে টাকার জোরে বিজয় ছিনিয়ে আনার জন্য, কিন্তু তা সম্ভব না। এলাকাবাসীর প্রশ্ন ভিন্ন, টাকা থাকলে সবকিছু নিজেদের আয়ত্বে নিয়ে আসা যায় না। টাকা দিয়ে সব কিছু করা যায় এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। তাঁদের মতে নির্বাচন এমন একটি বিষয়, এখানে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার প্রশ্ন রয়েছে। যারা মানুষ ও এলাকার উন্নয়ন সাধন করতে পারবে তাদের কে ভোট দিয়ে জয় যুক্ত করব। 

মেয়র প্রার্থীর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে একই দলের বেশ কয়েকজন প্রার্থী মেয়র হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। আবার কাউন্সিলর ক্ষেত্রে তরুণদের সংখ্যাই একটু বেশি। এছাড়াও বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও আছেন মাঠে। এদিকে রাঙামাটি পৌরসভার নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও চুড়ান্ত করে নাই নির্বাচন কমিশন। বর্তমান যারা জনপ্রতিনিধি আছে, তাঁরা যদি আবারও প্রার্থী হন, জনগণ ও এলাকার কতটুকু অতীতে কাজ করেছেন তা খতিয়ে দেখবেন। এবং এর উপর ভিত্তি করে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে বলে জানায় তারা। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই সম্ভাব্য প্রার্থীরা সাধারণ ভোটারদের কাতারে সামিল হওয়ার চেষ্টা করছে।